সাওম বা রোজা নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার একটি মাধ্যম। অনেক নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা সহজ হয়। কারণ রোজা নফসকে খাওয়া, পান করা, সহবাস করা হতে বিরত রাখে। যার কারণে এটি অনেক বড় বড় নেয়ামতের সমষ্টি।

সে সমস্ত নেয়ামত মানুষের কাছে যদিও অজ্ঞাত। জ্ঞাতও কিছু আছে। যেমন, রহমত-মাগফিরাত-নাজাত প্রাপ্তি, একটি আমল করলে দ্বিগুণ সাওয়াব, ইতিকাফ ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক। যখন সে রোজাকে পার করবে, তখনই বুঝতে পারবে রমজানের নেয়ামতের কদর। বুঝতে পারবে অভাব।

সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো গোনাহ মাফ পাওয়া, যদি বান্দা সেভাবে চেয়ে নিতে পারে। পক্ষান্তরে গোনাহ মাফ করাতে না পারলে অনেক অকল্যাণ।

নবীজী যখন একটা করে মিম্বরের সিঁড়ি অতিক্রম করছিলেন আর আমীন বলছিলেন। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলে নবীজী উত্তর করলেন। তন্মধ্যে একটা হলো, জিবরীল যখন বললেন, যে রমজান পেলো কিন্তু নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারলো না, সে ধ্বংস হোক। তখন আমি বলেছি, আমীন।

অতএব বুঝা গেলো, রমজানের কদর করা মূলত শুকরিয়া আদায় করার উপর নির্ভর করে। কেনই বা করবে না, নেয়ামতের শুকরিয়া আদার করা একজন বান্দার জন্য আকলী বা জ্ঞানগত ভাবেই ফরজ বলা যায়। এটাই তো মানুষের মেধায় ধরে ওঠে না। অথচ এদিকেই আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন- 

যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো বা শোকরগুজারী হতে পারো। (আয়াত)

রোজা হলো তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম। যখন স্বভাবগতভাবে হালাল থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যেও রোজা তাকিদ দেয়, তো হারাম থেকে বেঁচে থাকা আরো সহজ হয়ে যায়।

মূলত সারা জীবন হারাম থেকে বেঁচে থাকা একজন ব্যক্তির জন্য ফরজ কাজ-যা থেকে খুব সহজে রক্ষা পাওয়ারও অভ্যাস গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণ হলো এই মাহে রমজানের রোজা। আর তাকওয়ার অর্ন্তভূক্ত একটা অর্থ হলো, হালালভাবে চলা ও হারাম থেকে বেঁচে থাকা। এদিকেই তো আল্লাহ সতর্ক করে ইরশাদ ফরমান-

যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো বা আল্লাহকে ভয় করতে পারো। (আয়াত)

শুধু সওমের মধ্যেই আছে প্রবৃত্তি ও শাহওয়াত থেকে বেঁচে থাকার ঔষধ। যখন নফস পরিতৃপ্ত হয় তখনি কুরিপু বা কামভাব জাগ্রত হয়। যখনই ক্ষুধার্ত হয়, তখনই প্রবৃত্তির জোয়ারে ভাটা নামে। এই কারণে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 

হে যুবক সম্প্রদায়, যদি তোমাদের কেউ সমর্থ থাকো, তবে বিবাহ করো। কেননা বিবাহ চোখকে নামিয়ে রাখে। অর্থ্যাৎ পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। গোপনাঙ্গ বা লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখে। আর যে ব্যক্তি অসমর্থ হয়, তবে সে যেন রোজা রাখে। এটাই তার জন্য এবং কল্যাণের জন্য এসেছে।

তাহলে তো একথা বলা যাচ্ছে যে, রোজা একটি ওছিলা- পাপ থেকে বেঁচে থাকার জন্য।

sowm-islami-entertainment

Islami Entertainment


সওম বা রোজা মিসকীনদের উপর রহমত ও দয়া হিসেবে আগমন করেছে। তো রোজাদার যখন সামান্য সময়ের জন্য ক্ষুধার্ত অনুভব করে, তখন তাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই এটা স্মরণে এসে যায়- যারা সারা সময়েই ক্ষুধার্ত থাকে, তাদের অবস্থার কথা- তাদের ব্যথার কথা।

সেসময় তাদের মন ঐ ভুখাদের প্রতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। দয়ায় ভরে ওঠে। তাদের প্রতি ইহসান করে। সাহায্য করে। এ সমস্ত কারণে অবশ্যই রোজাদাররা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আজরে আজীম পাবেন। আল্লাহ পাক কবুল করুন। কারণ, হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ পাক বলেছেন,

রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেবো। (হাদীসে কুদসী)

সওমের আরেকটা গুঢ় রহস্য হলো, রমজান মাসে শয়তানকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে পড়ে। এ মাসে শয়তানকে জাহান্নামে শিকল দ্বারা বেধে রাখা হয়। নিয়ন্ত্রণ করার কারণ হচ্ছে- পথভ্রষ্ট ও গোমরাহ করার জন্য শয়তানের অস্ত্র হলো- প্রবৃত্তি। সহজে, খুব সহজেই প্রবৃত্তিকে কুপোকাত করতে পারে মাহে রমজানের রোজা।

কারণ, রোজাদারের তো খাওয়া-পান করা নিষেধ, সহবাস করা নিষেধ। ভুখার যন্ত্রণায় এত আমোদের চিন্তাই আসে না। এ মাসে এমনকি অন্যায় বা পাপ করাও নিষেধ। তাহলে এ অবস্থায় শয়তান কি সহজেই পরাস্ত হবে না? অবশ্যই হবে। হবেই।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে কবুল করুন। মাহে রমজানের রোজা নসীব করুন। রোজার সমস্ত ফজীলত, হাকীকত, বরকত, নেয়ামত আঁচল ভরে দান করুন। আমিন। 

লিখেছেন

এস এম নাজমুস সাকিব 

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।