ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত একটি অন্যতম স্তম্ভ। র্নিধারিত সময়ে স্বীয় মালিকানাধীন সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্ধারিত খাতে ব্যয় করার নামই যাকাত। মানব জীবনে যাকাতের ভূমিকা অপরিসীম।

দরিদ্রতা বিশ্ব মানবতার প্রধান সমস্যা। সমাজ থেকে স্থায়ীভাবে দরিদ্রতা দূর করার জন্যই ইসলাম যাকাত ব্যবস্থা চালু করেছে। যাকাত প্রদান ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদতও বটে, অন্যদিকে যাকাত হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচনের স্থায়ী ও চিরন্তন বিধান।

ইসলামে যাকাত ব্যবস্থা ধনী দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে ভারসাম্য মূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার  একমাত্র কল্যানকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা ।পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে সালাত আদায়ের পাশাপাশি যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 

اقيموا الصلوة واتوا الزكاة

অর্থাৎ তোমরা সালাত আদায় করো এবং যাকাত দাও। (বাকারা:৪৩)

অপর দিকে আদেশ অমান্যকারীদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। যেমন রাসূল (স.) বলেন,

কিয়ামতের দিন যাকাতের অনাদায়কৃত সম্পদ সাপে পরিণত করা হবে এবং তা দংশন করবে আর বলবে- আমি তোমার সম্পদ, আমিই তোমার ধন ভান্ডার(সহীহ বোখারী)।

কোরআন মাজিদে যে দানের কথা বলা হয়েছে তা ভিক্ষাদান নয় বরং তা বিত্তশালী ব্যক্তিদের সঞ্চিত অতিরিক্ত একটি সুনির্দিষ্ট অংশ ন্যায্য দাবিদার বিত্তহীনদের আবশ্যিক ভাবে প্রদান করা, আরবীতে যাকে জাকাত বলে। তাইতো বলা হয়-

Islam is a universal complete comprehensive and scientific code of life.

যাকাত  ইসলামের সেতুবন্ধনও বটে। এই যাকাত যদি সঠিকভাবে আদায় এবং বন্টন করা যায় তাহলে দেশ থেকে দারিদ্রের কালো ছায়া মুছে যাবে, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। নিম্নে দারিদ্রতা দূরীকরণে যাকাতের ভূমিকা আলোচনা করা হলো।

 

দরিদ্রতার পরিচয়:

দারিদ্র্য বিশ্ব মানবতার কাছে বহুল পরিচিত একটি শব্দ। এটি এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যখন একজন মানুষ জীবন যাত্রার নূন্যতম দ্রব্যাদি ক্রয় করার সক্ষমতা হারায়। সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাচারিতা ও আগ্রাসন জনসংখ্যার চাপ, অর্থনৈতিক দুর্দশা, সামাজিক ও রাজনৈকিত সমস্যা এবং বন্যা জলোচ্ছ্বাস, খরা ইত্যাদির মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ দারিদ্র্য সৃষ্টি করে।

ইসলামিক দৃষ্টিতে দারিদ্রতাহচ্ছে এমন এক অবস্থা, যা মানব জীবনের অব্যাহত প্রয়োজনীয় পণ্য বা মাধ্যম উভয়ের অপর্যাপ্ততা বুঝায়।

  •  বিশ্ব ব্যাংকের মতে,

দৈনিক ১.৯০ ডলার তথা বাংলাদেশীয় টাকায় ১৪৮ টাকার কম আয় করা মানুষ দরিদ্র বলে গণ্য হবেন।

  • According to Scottish poverty information unit,
    Poverty is defined relative to the standards of living is a society at specific time. People live in poverty when they are denied an income sufficient for their material needs and when these circumstances exclude them form taking part in activities which are an accepted part of daily life in the society.

                                                                                                                

যাকাতের আভিধানিক পরিচয়:

যাকাত একটি ব্যাপক প্রত্যয়। এটি আরবী শব্দ زكوة থেকে গৃহীত। যার অর্থ পবিত্রতা বা পরিশুদ্ধতা। যাকাতরে আরেক অর্থ পরিবর্ধন (Growth) শুধু তাই নয়,  যাকাত একাধারে পবিত্রতা, বর্ধিত হওয়া, আশীর্বাদ (Blessing) এবং প্রশংসা অর্থেও ব্যবহৃত হয়,

কুরআন ও হাদিসে যাকাতের এসব তাৎর্পয নিহিত।

আল্লামা জুরযানী বলেন- الزيادة الزكاة فى اللغة অর্থাৎ যাকাতের আভিধানিক অর্থঅতিরিক্ত।

মাওলানা আব্দুর রহীম বলেন, যাকাত শব্দের আসল অর্থ হচ্ছে প্রবৃদ্ধি (Growth), প্রবৃদ্ধি লাভ (Increase), প্রবৃদ্ধির কারন (To Cause to grow) ইত্যাদি যা আল্লাহ প্রদত্ত বারাকাত (Blessing) থেকে অর্জিত হয়।

ইসলাম বিশ্বকোষে যাকাতের অর্থ সম্পর্কে আছে, যাকাত অর্থ পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।

আবুল হাসান বলেন, যাকাতের অর্থ الطهارة والنماء والبركة والمدح পবিত্রতা, বৃদ্ধি, বরকত ও প্রশংসা।

 

যাকাতের পারিভাষিক পরিচয়:

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, জীবন যাত্রার অপরিহার্য প্রয়োজন পুরনের পর সম্পদে র্পূণ এক বছরকাল অতিক্রম করলে ঐ সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্ধারিত খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলা হয়।

  • দুররুল মুখতার গ্রন্থাকারের মতে,

الزكاة هي تمليك جزء مال عينه الشارع فقيرا مسلما غير هاشمي ولا مولا مع قطع المنفعة عن المملك من كل وجه الله تعالي অর্থাৎ: যাকাত বলা হয় হাশেমী বংশোদ্ভূত ও তাদের গোলাম ব্যতিত অসহায় মুসলমানকে তার থেকে কোন ধরনের উপকারিতার আশা ছাড়া শরীয়ত নির্ধারিত সম্পদের অধিকারী বানানো।

  •  ফিকহুস সুন্নাহ গ্রন্থকারের মতে: 

الزكاة اسم لما يخرجه الانسان من حق الله تعالى الي الفقيراء

অর্থাৎ: যাকাত  আল্লাহ তাআলার এমন প্রাপ্য যা অসহায়দের দেয়া হয়।

  • সুফিয়ান সাওরী (র.) বলেন:

هو اخراج جزء معين من الثروة المملوكة كل سنة حسب اداء الشريعة

অর্থাৎ: স্বীয় মালিকানাধীন সম্পত্তি হতে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট অংশ শরিয়তের নির্দেশানুপাতে বের করে দেয়াকে যাকাত বলে।

  •   According to the Oxford Dictionary: 

Payment made annually under Islamic law on certain kinds of property and used
for charitable and religious purpose, one of the Five pillars of Islam.

 

যে সকল সম্পদে যাকাত দিতে হয়:

ইসলামী শরীয়াহ যে সমস্ত প্রধান প্রধান বিষয়ের উপর যাকাত ধার্য করেছে, সে সবের মধ্যে রয়েছে-

১.       সঞ্চিত জমাকৃত অর্থ

২.       সোনা-রুপা বা এসব হতে তৈরি অলংকার

৩.      ব্যবসায়ের পণ্য সামগ্রী

৪.       কৃষিজাত ফসল

৫.       খনিজ উপাদান

৬.       হালাল প্রাণী


যাকাতের হার:

১. কৃষিজাত ফল, ফসল পাঁচ ওয়াসাক বা ১৫৬৮ কেজি অথবা ৪০ মন ৩২ শের।  ক. সেচকৃত জমির ক্ষেত্রে ৫%  খ. সেচবিহীন জমির ক্ষেত্রে ১০%  গ. সেচ ও সেচবিহীন মিলিত জমির ক্ষেত্রে ৭.৫%।

২. সোনা-রুপা বা এসব হতে তৈরি অলংকার ৭.৫ ভরি সোনা (৮৫গ্রাম), ৫২.৫ ভরি রুপা (৫৯৫গ্রাম) বিক্রয় মূল্যের ২.৫% ।

৩. হাতে নগদ বা ব্যাংক মজুদ ৫২.৫ তোলা রুপার মূল্যের সমান (৫৯২গ্রাম) নগদ বা মজুদ অর্থের ২.৫%।

৪. ব্যবসায়ের পণ্য ৫২.৫ তোলা রুপার মূল্যের সমান (৫৯২গ্রাম) পণ্যের মূল্যের ২.৫%।

৫. গরু ৩০ টি-  ক. প্রতি ৩০ টির জন্য ১টি খ. প্রতি ৪০টির জন্যে ২ বছর বয়সী ১টি।

৬. ছাগল ও ভেড়া ৪০টি ক. প্রথম ৪০-১২০টির জন্য একটি খ. ১২১-২০০টির জন্য ২টি গ. ২০১-৩০০ টির জন্য ৩ টি এবং এর অতিরিক্ত প্রতি ১০০টির জন্য ১টি করে ছাগল/ভেড়া।

৭. খনিজের উৎপাদন যেকোন পরিমান উৎপাদনের ২০%।

 

যাকাতের খাতসমূহ:

যাকাত বন্টনের খাত সমূহকে শরীয়তের পরিভাষায় মাসারিফুয্যাকাত বলা হয়। সবাইকে যাকাত দেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে ইসলাম কতগুলো ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যাকাত বন্টনের খাত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

انما الصدقت للفقراء والمسكين والعملين عليها والمؤلفة قلوبهم وفي الرقاب والغارمين وفي سبيل الله وابن السبيل فريضة من الله، والله عليم حكيم

অর্থাৎ: যাকাত হলো কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদ কারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। এ হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবাঃ ৬০)

 

দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা:

যাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। যাকাত ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিরাজমান গগনচুম্বী বৈষম্য ধীরে ধীরে কমে আসে এবং সমাজে অর্থনৈতিক সাম্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

দারিদ্র্র্য দূরীকরণে যাকাতের অবদান বিস্ময়কর। যাকাতের দ্বারা গরিব, অক্ষম, অভাবগ্রস্ত, লোকদের পূর্ণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দানের ব্যবস্থা করা যায়। যাকাত বন্টনের ৮টি খাতের মধ্যে ৪টি খাতই সর্বহারা, অসহায়, অভাবগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য নিবেদিত।

এর দ্বারা বুঝা যায় দারিদ্র দুর করাই যাকাতের মূল লক্ষ্য। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী র. এর কথায় শুনাযায় তারই প্রতিধ্বনি তিনি বলেন-

Zakat Has been ordained to serve two purposes; self discipline and provision aginst social destitution.

অর্থাৎ, যাকাত দুইটি লক্ষ্যে নিবেদিত- আত্মশৃঙ্খলা অর্জন ও সামজিক দারিদ্র্য নিরশন।

বিংশ শতাব্দির বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আব্দালাতি বলেন, 

Zakat mitjigates to a minimum the suffering of the ready and poor members of society. It is a most comforting consltion to the les fortunate people. Yet it is a loud appeal to everybody to rool up his sulves and improve his lot.

যাকাত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দু:খ কষ্ট নিবারণ করে। এটি অভাবীদের জন্য শান্তি ও ভাগ্যেন্নয়নের শ্রেষ্ঠ উপায়। দুস্থ অভাব গ্রস্থ মানুষের সমস্যা সমাধানে যাকাতই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

 

জাতীয় আয়:

যাকাত ইসলামী রাষ্ট্রের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিত্তবান ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ জাতীয় যাকাত তহবিলে প্রদান করে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুদ করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দান করে ।

রাষ্ট্রের সকল নাগরিক যদি তাদের সম্পদের শতকরা আড়াইভাগ যাকাত তহবিলে প্রদান করতো তাহলে দেশের মধ্যে দরিদ্রের সংখ্যা অনেকাংশ কমে যেত।

উদাহরন স্বরুপ  আমরা যদি বাংলাদেশের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই, বাংলাদেশ ব্যাংক এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে মিলিয়নিয়ারের (ব্যাংকে নূন্যতম ১০লাখ টাকা সঞ্চয়করী) সংখ্যা ২৩,৩১০ জন। যাদের সমুদয়ের সঞ্চয়ের পরিমান ১,০০,৫৪৪ কোটি টাকা ।

যা পুরো ব্যাংক সঞ্চয়ের ৩৩ শতাংশ। এই ২৩,৩১০ জনের ৮০% মুসলিম ধরলে তাদের যাকাত আসে ২০০০ কোটি টাকার বেশি।

আর যাকাত তো দশ লাখ টাকায় নয় আরো অনেক কম টাকায় ফরয হয়। তাহলে সবার সমষ্টিগত যাকাত হিসাব করলে নূন্যতম পাঁচ হাজার কোটি টাকা হবে। যা নি:সন্দেহে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের উন্নয়নের খাতের অনেক উপখাতের বাজেটের তুলনায় বেশি।

যাদের উপর যাকাত ফরজ, তারা সবাই যাকাত দিলে দেশে আর কোন দরিদ্র অবশিষ্ট্য থাকবে বলে মনে হয় না।

 

দারিদ্র্য বিমোচনে “উশর”:

ফসলের উপর যাকাতকে উশর বলা হয়। উশরের সার্বিক ব্যবহার দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

উশরের বিধান সম্পর্কে রাসূল (স.) বলেন,

فيما سقت السماء والعيون العشر وفيما سقى بالنضح نصف العشر

বৃষ্টি বা র্ঝণার পানির উৎপাদনের দশ ভাগের এক ভাগ এবং সেচের মাধ্যমে উৎপাদনের এক-দশমাংশের  যাকাত দিতে হবে । (তিরমিজি, হাদিস নং ৬৩৯) 

উশরের সঠিক আদায় ও সুষ্ঠু বন্টনে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। বাংলাদেশের মত কৃষি নির্ভর দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উশর ব্যবস্থার গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা আমরা সকলেই বুঝতে পারি।   কিন্তুু ফসলের উশর সবাই আদায় করে না।

যদি সবাই যথাযথ ভাবে উশর প্রদান করত বা রাষ্ট্রীয়ভাবে উশর আদায় করা হতো, তবে বার্ষিক ২০০০ কোটির ও বেশী রাজস্ব আয় হতো এবং শরীয়ত নির্ধারিত খাত সমূহে তা বিতরনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা অধিকতর সহজ হতো।

উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি স্পষ্ট করা যায়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ সালে বাংলাদেশে ধান চাষ ও উৎপাদনের চিত্র নিম্ন রূপ-

 

ধান    চাষকৃত জমি উৎপাদনের পরিমান
আউশ   ১০লক্ষ ৪৫হাজার হেক্টর ২৩লক্ষ ২৮হাজার মেট্রিক টন
আমন   ৫৫লক্ষ ৩০ হাজার হেক্টর ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৯০ হাজার মেট্রিক টন
বোরো   ৪৮লক্ষ ৪৬ হাজার হেক্টর ১কোটি ৯৩লক্ষ ৪৩হাজার মেট্রিক টন

     

মোট উৎপাদন ৩,৪৮,৬১০০০ মেট্রিক টন। সকল উৎপাদনকে সেচ নির্ভর ধরা হলে মোট উৎপাদনে যাকাত ১৭,৪৩,০৫০ মেট্রিক টন (২০ভাগের ১ভাগ হিসেবে)। স্বাভাবিক ভাবেই এর মধ্যে কিছু অমুসলিম নাগরিকের ভূসম্পত্তি ও উৎপাদন রয়েছে। এছাড়া উৎপাদন খরচ বাবদ কৃষকগণ কিছু উৎপাদনকে উশরের হিসাবের বাইরে রাখতে পারেন।

এসব দিক বিবেচনা করে যদি মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ ১,১৬,২০,৩৩৩.৩ মেট্রিক টন বাদ দেয়া হয় সে ক্ষেত্রে বাকি ২,৩২,৪০,৬৬৬.৭ মেট্রিক টন ফসলের ৫% উসর হবে ১১,৬২০৩৩.৩৪ মেট্রিক টন। এখন প্রতি মেট্রিক টন ধান ২২০০০ টাকা হিসাবে ১১,৬২০৩৩.৩৪ মেট্রিকটন ধানের মূল্য ২৫,৬৫,৪৭,৩৩৪৮০ টাকা।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, এখানে শুধু ধানের উশর হিসাব ধরা হয়েছে। গম, পাট, তুলা, ডাল, সরিষা ও অন্যান্য ফল ও ফসলের উশর হিসাব করা হয়নি। এগুলো হিসাব করলে বাৎসরিক উশর প্রায় দ্বিগুন হবে।

সুতরাং উপরোক্ত হিসাব থেকে বুঝা যায় , ’উশর’ যাকাতের একটি অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি উশরের সঠিক আদায় ও বন্টন নিশ্চিত করা যায় তাহলে দারিদ্র্য বিমোচনে ’উশর’ গুরুত্বর্পুণ ভূমিকা পালন করবে। 

 

কর্মসংস্থান ও বেকারত্বদূরীকরন:

যাকাত রাষ্ট্রের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে । যাকাতের অর্থ ব্যয়ে ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দরিদ্র বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। যেমন-

১. গরীব কৃষকদের হালের বলদ ক্রয়ে এ অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যেতে পারে।

২. এ ছাড়া এ অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র আকারের উৎপাদনমুখী কর্মসূচী যেমন: চাল, চিড়া, মুড়ি তৈরী, নার্সারী তৈরী, তাত সামগ্রী তৈরী, হাস মুরগী পালন ও মাছের চাষ, সেলাই মেশিন, ইলেক্ট্রিক সামগ্রী মেরামত, রিক্সা-ভ্যান তৈরী ও মেরামত ইত্যাদি পরিচালনা করা যেতে পারে।

৩. ক্ষুদ্রাকারের ব্যবসা যেমন: মুদি দোকান, চায়ের দোকান, মিষ্টির দোকান, মাছের ব্যবসা, ফলের ব্যবসা ইত্যাদি পরিচালনা করা যেতে পারে। তাতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

৪. এছাড়া বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, অসহায় মহিলাদের এ অর্থ দিয়ে সেলাই কাটিং, বুটিক সহ বিভিন্ন কুটিরশিল্প সামগ্রী তৈরি করার প্রশিক্ষন দিয়ে তাদেরকে সাবলম্বী হতে সহায়তা করা যেতে পারে।

৫. প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক লোক বন্যা, নদী ভাংঙ্গন ও অগ্নিকান্ডে তাদের ঘর বাড়ি হারায়। যাকাতের অর্থ দিয়ে এসকল বাস্তুহারা গৃহ নির্মাণে সহায়তা করা যেতে পারে।

সুতরাং কর্মসংস্থান ও বেকারত্বদূরীকরনে যাকাতের ভূমিকা অপরিসীম।


উৎপাদন বৃদ্ধি:

যাকাত যেমন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে তেমনি অর্থনীতিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করে। যাকাতের অর্থ নি:স্ব ব্যক্তির ভিক্ষার হাতকে কর্মীর হাতে রুপান্তরিত করে।

যেকোন উৎপাদন কাজে শ্রমের সাথে পুঁজির সংযোজন অনস্বীকার্য । মানুষ তার শ্রমের মাধ্যমে তার বিস্ময়কর উন্নয়ন ঘটাতে পারে। কাজে লাগাতে পারে অসংখ্য প্রকৃতির সম্পদকে, পারে মরুভূমিকে উর্বর জমিতে পরিনত করতে।

তবে এর জন্য প্রয়োজন যন্ত্র-পাতি যা  অর্থনীতির ভাষায় পুঁজি দ্রব্য। পুঁজির অভাবে বহু কর্মক্ষম দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেকারত্ব জীবন যাপন করছে। যাকাতের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে এ সকল দরিদ্র জনশক্তিকে উৎপাদন কর্মকান্ডকে ব্যবহার করে উৎপাদন বহুগুনে বাড়ানো সম্ভব।


রাষ্ট্রীয় আয়ের উৎস সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা:

যাকাত ইসলামী রাষ্ট্রের আয়ের অন্যতম উৎস। ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করে তা রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হয়। এ অর্থ রাষ্ট্রীয় আয় হিসেবে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

ফলে রাষ্ট্র সব পর্যায়ের নাগরিকের জন্য জীবনের মৌলিক চাহিদা (অন্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা, ইত্যাদি) পূরনের তথা সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শক্তি অর্জন করে।

যাকাত সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মানব ইতিহাসের প্রথম আইনানুগ ব্যবস্থা। ব্যক্তিগত দানের উপর মানুষকে নির্ভরশীল না করে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিত ভাতা হলো যাকাত। এ নিরাপত্তা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাস রত সকল অভাবী জনগনের জন্য, হোক সে অমুসলিম।


ঋণ সহায়তা দান:

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে দান যাকাত ব্যয়ের একটি অন্যতম খাত। তাই সমাজে ঋণী ব্যক্তিদের যাকাত দিয়ে সহযোগিতা করে ঋণ সহায়তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

”সদকা তো কেবল নি:স্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংস্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের,  আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য । এটা আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়”। সূরা তাওবাঃ৬০

এখানে আল্লাহ তাআলা ঋণগ্রস্তদের ঋণদিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলেছেন। সুতরাং দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম ।


শিক্ষা ও প্রশিক্ষনমূলক কর্মসূচী:

যাকাতের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষনমূলক অনেক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ইসলামি শিক্ষা বিস্তারের জন্য যাকাতের অর্থ দিয়ে গরীব ছাত্রদের বই কিনে দেয়া থেকে শুরু করে তাদের জামা-কাপড় ও লিল্লাহ বোডিং এ থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তথ্যপ্রযুত্তির এ যুগে কম্পিউটার প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে গরীব জনশক্তিকে অধিকতর উৎপাদনমুখী করা যেতে পারে এই অর্থ দিয়ে। এছাড়া ইসলামী সাহিত্য প্রকাশ ও প্রচারের জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয়করে জনসাধারনকে ইসলাম মুখী করা যেতে পারে।


যাকাত সম্পদ বৃদ্ধি করে:

যাকাত দিলে মানুষের সম্পদ কমে না বরং বাড়ে। যারা গভীর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর নির্দেশমতো তাঁর পথে ব্যয় করেন,পরম করুনাময় আল্লাহ এর বিনিময়ে কেবল পরকালে নয়, দুনিয়াতেও ব্যাপক বরকত, সচ্ছলতা ও উন্নতি দান করেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

وما اتيتم من زكواة تريدون وجه الله 

অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে তোমরা যে যাকাত দাও, মূলত যাকাত দানকারী সম্পদ বৃদ্ধি করে। (সূরা রুমঃ৩৯) 

অন্যত্র বলা হয়েছে,

যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে তাদের খরচের দৃষ্টান্ত হচ্ছে একটি শস্য বীজের মতো, যে বীজ থেকে সাতটি বীজ শীষ বের হয় এবং প্রত্যেকটি শীষে হয় একশতটি দানা। আল্লাহ যার আমলকে চান এভাবেই বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ তো সীমাহীন জ্ঞানের অধিকারী। সূরা বাকারা-২৬১

এভাবে আল্লাহ তাআলা যাকাত আদায় কারীকে অনেক শুভ সংবাদ দিয়েছেন। প্রত্যেক বিত্তবান ব্যক্তি যদি তাদের যাকাত সঠিক ভাবে আদায় করে তা হলে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি দরিদ্র ব্যক্তিরাও উপকৃত হবে, ফলে দেশে অনেকাংশ দরিদ্রতা হ্রাস করা সম্ভব হবে।

 

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা অনয়ন:

যাকাত সমাজ ও রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা আনায়নে গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখে । যাকাত ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে এবং সরকার কর্তৃক মজুদদারী ও মুনাফাখোরী নিয়ত্রিত হলে সম্পদ কোথাও পুঞ্জীভুত হতে পারে না । ফলে সমাজে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আসে।

 

মজুদদারী রোধ করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ:

যাকাত মুজদদারদের আপসহীন শত্রু। যাকাত অর্থকে অলসভাবে মজুদ করে রাখার প্রবনতা নাশ করে। কারণ মজুদকৃত অর্থ সম্পদের উপরই যাকাত হিসাব করা হয়ে থাকে।

মজুদদারীদের সম্পদ দরিদ্রের মাঝে বন্টনের মাধ্যমেই দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। যাকাত মূলত ব্যক্তির নিজের সম্পদ নয় বরং দারিদ্র্য ক্লিষ্ট বঞ্চিত ও প্রার্থীদের সম্পদ যা তার সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে আছে।

মজুদদারিকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,

وفى اموالهم حق للساءلل والمحروم অর্থাৎ তাদের সম্পদে অধিকার রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের। (সূরা যারিয়াত-১৯)

অন্যত্র মহানবী (স.) বলেছেন,

যে ব্যক্তি তার অর্থ সম্পদ ৪০ দিনের বেশী জমা রাখবে সে জাহান্নামি। সহিহ বুখারি হাদিস নং ১৩০৮, তিরমিজি হাদিস নং ২৩৯২ 


পুঁজিবাদের অবসান:

পুঁজিবাদ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের অবাধ ব্যক্তিমালিকানা ও ব্যক্তি স্বার্থ স্বীকৃত। যার ফলে মানুষ তার খেয়াল খুশি মতো তার সম্পদ আয় এবং ব্যয় করতে পারে । এখানে ব্যক্তিই সম্পদের নিরস্কুশ মালিক বলে স্বীকৃত।

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় অবাধ ব্যক্তিমালিকানা ও ব্যক্তিস্বার্থ স্বীকৃত নয়, বরং সুবিচার পূর্ন এ ব্যবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত এবং ব্যক্তির সম্পদে সমাজ ও রাষ্ট্রের অধিকারও আছে । ইসলামী অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মূল মালিক আল্লাহ তায়ালা। যেমন আল্লাহ বলেন,

ولله ما في السموات والارض

অর্থাৎ আসমান জমীনে যা কিছু আছে সবই মহান আল্লাহ তাআলার জন্য। (সূরা বাকারা-২৮৪) 

তাই যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তনই পারে পুঁজিবাদের অবসান ঘটাতে। যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তনের ফলে পুঁজিবাদিদের ধন সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার প্রবনতা হ্রাস পায় । ফলে ধনী দরিদ্রে ভারসাম্য রক্ষা করে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

 

সুদের কুফল মুক্ত সমাজ গঠন:

সুদের নৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কুফলের অভিশাপে আজ সারা বিশ্ব বিদগ্ধ। যাকাত ও উশর ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা সুদকে বিলুপ্ত করে সমাজ থেকে এসব কুফলকে দুর করার পথ উন্মুক্ত করে। ফলে সমাজে ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

পরশিষেে যাকাতরে মাধ্যমে দারিদ্র্য বমিোচনে ইসলামরে দৃষ্টি ভঙ্গি কি? এ র্মমে একটি হাদীস উল্লখে করে আলোচনার ইতি টানব।

ইমাম তাবরানী (রহঃ) তাঁর “আওসাত ও সাগীর” গ্রন্থে আলী (রাঃ) থকেে র্বণনা করছেনে। মহানবী (স.)  ইরশাদ করনে,

ان الله فرض على اغنياء المسليمين،في اموالهم بقد الذي يسع فقراءهم ، ولن يجهد الفقراء، اذا جاعوا اوعروا الا بما يصع اغنياهم، الا وان الله يحاسيهم حسابا شديدا ويديهم عذابا اليم

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা ধনী মুসলমানদরে সম্পদে এ পরমিাণ যাকাত ফরয করছেন যা তাদের দরিদ্রদের প্রয়োজন মটোতে যথেষ্ট। দরিদ্র মুসলিম বৃন্দ অভুক্ত ও বিবস্ত্র থাকার যে কষ্ট করে যাচ্ছে এটি তাদের ধনীদের সৃষ্ট। শুনে রাখ আল্লাহ তাআলা তাদের হিসাব কঠিন করে নিবেন এবং যন্ত্রনাদায়ক কঠিন শাস্তি দিবেন। (আওসাত ও সাগির/٣٢٠٣االوسطً فًَ انطثشا)

হাদীস দ্বারা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে সুষ্ঠভাবে যাকাত আদায় হলে মুসলমানদের মাঝে দারিদ্র্য থাকবে না। দারিদ্র্য বিমচনে যাকাতরে ভুমিকা কত অপরিসীম এ হাদীস তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

 

উপসংহার:

যাকাত ইসলামী জীবন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বুনিয়াদ। ধনী দরিদ্রের ব্যবধান বিদুরিত করে বিশ্বব্যাপী একটি সুসংঘবদ্ধ সমাজ গঠনে যাকাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাকাত প্রথার মাধ্যমে সমাজে ধনী দরিদ্রের মাঝে ভারসাম্যপূর্ন সহাবস্থানের সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় সমাজের নি:স্ব অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি সৌহার্দ্য সম্প্রীতি প্রকাশের এক অপূর্ব মাধ্যম হলো যাকাত ব্যবসসচি

লেখক

মো:ইব্রাহীম

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।