আল্লাহ তায়লা সুন্দরকে ভালোবাসেন, তাইতো তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি এতো সুন্দর। আল্লাহ তায়ালার অসম্ভব সুন্দর সৃষ্টির অন্যতম সৃষ্টি হল মানুষ। আর এই মানুষের সাজ-সজ্জা কিরূপ হবে সে সম্পর্কেও মহান আল্লাহ তায়লা দিক নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন।

সাজ-সজ্জার ব্যাপারে শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাই আজকে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশভূষা ও সাজ-সজ্জা সম্পর্কে জানবো ইনশা আল্লাহ। 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশভূষা ও সাজ-সজ্জা

rasul sm choice


রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুল খুব সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতেন। প্রচুর তেল ব্যবহার করতেন। চিরুনি দিতেন, সিঁথি কাটতেন, ঠোটের বাড়তি পশম ছেঁটে ফেলতেন, দাড়িও লম্বায় চওড়ায় কাচি দিয়ে সমান করে রাখতেন। সাথীদেরকে এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিতেন। [১]

এছাড়া বারআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ

আমি কোন ব্যক্তিকে কান পর্যন্ত বাবরীধারী, লাল ইয়ামনী চাদরের আবরণে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক সুন্দর দেখিনি। রাবী মুহাম্মদ (রহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন যে, তাঁর চুল ঘাড় পর্যন্ত লম্বা ছিল।

ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ ইসরাঈল আবূ ইশাক (রহঃ) সূত্রে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর চুল ঘাড় পর্যন্ত লম্বা ছিল। রাবী শু’বা(রহঃ) বলেনঃ তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। [২]

উনি সফরে কিংবা ঘরে যেখানেই থাকতেন ৭টি জিনিস সব সময় কাছে ও বিছানার নিকট রাখতেন যথা:

  • তেলের শিশি
  • চিরুনি
  • সুর্মাদানী (কালো সুর্মা)
  • কাচি
  • মেসওয়াক
  • আয়না
  • এক টুকরা হালকা কাঠ

রাতে শোবার সময় তিনি প্রতি চোখে ৩ বার সুর্মা নিতেন। শেষ রাতে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে ওযু করতেন, পোশাক বদলাতেন, সুগন্ধি লাগাতেন (রায়হান নামক সুগন্ধি বেশী পছন্দ করতেন)। মেহেন্দির ফুলের সুগন্ধিও ভালোবাসতেন। সবচেয়ে বেশী প্রিয় ছিল মেশক ও চন্দনের সুগন্ধি। [৩]

সুগন্ধি তথা আতর ব্যবহারের ব্যাপারে অসংখ্য হাদিস এসেছে। আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ধরণের মিশ্রিত খোশবু ছিল, যা তিনি সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহার করতেন। [৪]

রাসূল সা: চাদর ব্যবহার করতেন। চাদর তিনি খুব পছন্দ করতেন। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিবারা ইয়ামনী চাঁদর পরিধান করতে বেশী পছন্দ করতেন। [৫]

হাতে আংটি পরার ব্যাপারেও হাদিস এসেছে। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটিটি ছিল রূপার তৈরি এবং উহার পাথর ছিল হাব্‌শ দেশের আকীক পাথরের। [৬]

শেষ কথা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় সাজ-সজ্জার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। কিছু শ্রেণীর লোকেরা পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদাসীন। বিশেষত: বৈরাগ্য বাদী তাসাউফের প্রবক্তারা নোংরা থাকাকে উচ্চ মর্যাদার আলামত মনে করে। তাদেরকে এই লেখাটি উৎসর্গ করলাম।

সূত্র:

১. আবু দাউদ

২. আবু দাউদ : ৪১৩৫

৩. সিরাতে মুহাম্মদে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: মাওলানা হাবীবুল্লাহ কাসেমী

৪. আবু দাউদ : ৪১১৫

৫. সহীহ বুখারী (ইফাঃ) : ২৩৪৭

৬. সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ): ৪১৬৯

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।