আল্লাহ তা‘আলা মুসলমানদের জন্য দুটি ঈদ উপহার দিয়েছেন। একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও অপরটি ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহার দিনে অন্যতম বড় ইবাদত হচ্ছে কুরবানী করা। একমাত্র আল্লাহর খুশির জন্য নিজের পছন্দের পশু কুরবানী করা হয়ে থাকে এই দিনে। এই লেখায় আজ কুরবানী সংক্রান্ত কিছু তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরব। 

 

কুরবানী কি ?

আরবি করব বা কুরবান( قرب বা قربان)শব্দটি উর্দু ও ফার্সি তে কুরবানী (قرباني) নামে রূপান্তরিত। এর অর্থ হলো নৈকট্য ও সান্নিধ্য ,ত্যাগ করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, sacrifice ইত্যাদি।

শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট নিয়মে  নির্দিষ্ট প্রাণী যবেহ করার নাম কুরবানী। অর্থাৎ জিলহজ্ব মাসের ১০,১১ও১২ তারিখে যে কোন দিনে দুম্বা ,খাসি, উট, গরু ,মহিষ প্রভৃতি গৃহপালিত হালাল চতুষ্পদ প্রাণী সমূহকে মহান আল্লাহ তায়ালার নাম উচ্চারণ করে তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যবেহ করাকে কুরবানী বলে।

 

কুরবানির ফজিলত

  • কুরবানীর পশুর শরীরে যত পশম থাকে ,প্রতিটা পশমের পরিবর্তে এক একটি নেকী পাওয়া যায়।
  • কুরবানীর দিনে কুরবানী করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত।

যাদের উপর কুরবানী দেয়া ওয়াজিব

  • ১০ ই জিলহজ্বের ফজর থেকে ১২ই জিলহজ্বের সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্থাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে যার নিকট সদকায়ে ফিতর বা ফিতরা ওয়াজিব হওয়া পরিমাণ সম্পদ থাকে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
  • সন্তানাদি মাতা-পিতা ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে নফল কুরবানী করা যাবে।
  • কুরবানীর মানত করলে মানতের উদ্দেশ্য পূর্ণ হলে কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
  • কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার পর কুরবানি না করলে কুরবানীর দিনগুলো চলে যাওয়ার পর একটা বকরির মূল্য  সদকা করা ওয়াজিব।

কুরবানী পশু

শুধু উট ,মহিষ ,গরু, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কুরবানি করা যায়।

কুরবানীর পশুর বয়স

  •  ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা বয়স কমপক্ষে পূর্ণ ১ বছর হতে হবে।
  • গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে।
  • উট এর বয়স কমপক্ষে ৫ বছর হতে হবে।
  • কুরবানীর পশু ভালো এবং হৃষ্ট পুষ্ট হওয়া উত্তম। যে পশু ল্যাংড়া বা কোরবানির স্থানে হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী হবে না। যে পশুর একটিও দাঁত নেই তা দ্বারা কুরবানী হবে না।

কুরবানীর পশু জবেহ করা প্রসঙ্গ

নিজের কুরবানীর পশু নিজেই যবেহ করা উত্তম নিজে যবেহ না করলে বা করতে না পারলে যবেহের সময় সামনে থাকা ভালো। কুরবানির পশুকে মাটিতে কেবলামুখী করে কুরবানির দোয়া পাঠ করা উত্তম। কেউ দোয়া পড়তে না পারলে শুধু বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করলে চলবে। ঈদের নামাজের পূর্বে কুরবানী করা জায়েয নয়।

 

কুরবানীর পশুর চামড়া

কুরবানির পশুর চামড়া দান করে দিবে। তবে শুকিয়ে বা প্রক্রিয়াজাত করে নিজেও ব্যবহার করা জায়েজ। কুরবানীর চামড়া বিক্রি করলে তার মূল্য দান করে দিতে হবে। মসজিদ ,মাদ্রাসা নির্মাণ কাজে এর মূল্য দেওয়া যাবে। তবে গরীব আত্মীয়- স্বজন, এতিম এবং মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে দিলে দ্বিগুণ  সাওয়াব পাওয়া যাবে।
পরিশেষে বলতে চাই, আল্লাহ তা’আলা মুসলিম জাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন ।লোক দেখানোর জন্য কুরবানি নয় বরং পশুকে জবাই এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য কুরবানি করার তৌফিক দান করুন ।
আমিন।

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।