বর্ণিত আছে, গােটা বিশ্বের অধিপতি হিসেবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন হযরত সুলাইমান (আ.)-কে নিযুক্ত করেন। তখন তিনি আল্লাহ পাকের নিকট এই মর্মে আবেদন জানান যে,

আমাকে দুনিয়ার রাজত্ব দান করেছেন তাই আমার একান্ত বাসনা- সমস্ত মাখলুককে এক বছর আপ্যায়ন করতে। আল্লাহ পাক দরখাস্ত না মঞ্জুর  করে বলেন এটা তােমার সাধ্যের বাইরে।

পুনরায় তিনি নিবেদন করেন, হে আল্লাহ্! এক মাসের মেহমানদারী করার অনুমতি দিন। মহান পাক পরওয়ার দেগারে আলম বললেন, এটাও তােমার শক্তির মধ্যে নেই।

অবশেষে হযরত সুলাইমান (আ.) বিনীত আরজ করলেন, হে মাওলা পাক একদিন মাত্র দাওয়াত করার অনুমতি প্রদান করুন। খালিক মালিক আল্লাহ তা’আলা এবারও বলেন, আমার সমস্ত মাখলুককে খাওয়ানাে তােমার সামর্থে কুলাবে না। কিন্তু তুমি বারবার পিড়াপিড়ি করছ তাই তােমাকে অনুমতি দেয়া হল।

অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে হযরত সুলাইমান (আ.) মানব দানবের সবধরনের খাবার পণ্যদ্রব্য জমা করার নির্দেশ দিলেন। মানুষ ও জ্বীন আদিষ্ট হয়ে রান্না বান্না আরম্ভ করেন। কয়েকমাস যাবত খাবার তৈরি কার্যক্রম চলতে থাকল। মহাসমুদ্রতীরে লম্বা চওড়া বিশাল দস্তরখান বিছিয়ে তার উপর খানার স্তুপ করা হল। খানা যাতে নষ্ট না হয় এজন্য বাতাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকার হুকুম হল।

আয়ােজন সমাপ্তে হযরত সুলাইমান (আ.) আল্লাহ তাআলার  দরবারে দরখাস্ত করেন, হে আল্লাহ! এখন আপনার মাখলুক পাঠিয়ে দিন, খানা প্রস্তুত। আল্লাহ পাক বললেন, প্রথমে আমি সমুদ্র থেকে একটি মাছ পাঠাচ্ছি। মাছটি বের হয়ে এসে বলল । আজ আপনার এখানে আমার “খাওয়ার দাওয়াত।

হযরত সুলায়মান (আ.) মাছকে বললেন, হ্যা তাশরীফ রাখুন এবং আহার গ্রহণ করুন। সুতরাং দস্তরখানের একপ্রান্ত হতে খাওয়া আরম্ভ করে খেতে খেতে মাছটি দস্তর খানের অন্য প্রান্তে পৌছল। তারপর হযরত সুলাইমান (আ.)-কে বলল! আরাে আনুন। তিনি মাছকে বললেন, খাবার যা ছিল সবই তাে খেয়ে শেষ করেছ।

মাছ বললাে মেজবানের পক্ষ হতে মেহমানকে এমন কথা বলতে হয় না। জন্ম থেকে অদ্যবধি প্রতিদিন পেট পুরে খানা খেয়েছি; কিন্তু আজ আপনার দাওয়াতের কারণে আমার পেটে ক্ষীধে রয়ে গেল।

যে পরিমাণ খাবার আপনি তৈরী করেছেন। আল্লাহ পাক দিনে দুবার আমাকে সে পরিমাণ খাবার খাওয়ান; কিন্তু আজ পেটভরে খানা পাওয়া গেল না।

ব্যাস হযরত সুলাইমান আলাইহিসসালাম সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং ইস্তেগফার করলেন।

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।