নারীরা কিভাবে রমজান কাটাবেন এটা জানা জরুরি। রমজান মাস রহমত এবং আমলের মাস। এ মাসে আমলের জন্য রয়েছে আলাদা সওয়াব এবং পুরষ্কার।

আল্লাহ সুবাহুনুতাআলা আদি পিতা হযরত আদম আ. এবং তার সহধর্মীনি হিসেবে আদি মাতা হাওয়া আ. কে সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই পুরুষ এবং নারী একে অন্যের সম্পূরক এবং সহযোগী। ইসলামে পুরুষের জন্য যেভাবে ইবাদত বন্দেগীর আদেশ রয়েছে নারীর জন্যও ঠিক তেমনি ভাবে রয়েছে।

আজকে আমরা নারীদের রমজানের ইবাদত সম্পর্কে জানবো। এছাড়া জেনে নিতে পারেন, ছোট ছোট আমলগুলোর কারণেই আল্লাহ বান্দাকে ভালবেসে ফেলেন

নারীরা কিভাবে রমজান কাটাবেন

নারীরা কিভাবে রমজান কাটাবেন

রোজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনো-দৈহিক একটি ইবাদত। রোজা ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম। আল্লাহ তা’লা রোজাকে পুরুষ এবং নারী উভয়েরই উপর ফরজ করেছেন। আল্লাহ তা’লা বলেন,

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর আদেশ করা হয়েছে রোযা যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর নির্ধারিত হয়েছিল যে তোমরা সৎকর্মই হও। [আল বাকারা: ১৮৩]

আল্লাহ তা’লা আরও বলেন,

যদি কোনও বিশ্বাসী নারী বা পুরুষ সৎকর্ম করে, অবশ্যই তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।

(সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ১২৪)।

হাদিসে আছে,

কোনও মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো আদায় করেন, রমাদান মাসে পূর্ণরূপে রোজা পালন করেন, নিজের সম্ভ্রম ও ইজ্জত আব্রু হেফাজত করেন এবং শরীয়াসম্মত বিষয়ে স্বামীর অনুগত থাকেন; তিনি জান্নাতের আটটি দরজার যেকোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবেন।

(আবু-দাউদ)

রমজানে নারীরা যে সমস্ত আমলগুলো বেশি করতে পারেন

১। রমজানে কিংবা রমজানের বাইরে সবচেয়ে উত্তম আমল হল হারাম থেকে বেচে থাকা। হারাম থেকে বেচে থাকা সবচেয়ে বড় ইবাদত বলা হয়েছে।তাই রমজানে মা বোনেরা হারাম থেকে বেচে থাকার চেষ্টা করবেন।

২। দোষ-চর্চা বা গীবত থেকে বেচে থাকতে হবে যা নারীদের মধ্যে খুব বেশি লক্ষ্য করা যায়।অপরের দোষ নিয়ে বেশি আলোচনা করার ব্যাপারে কুরআন এবং হাদিসে খুব কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

৩।সালাতগুলো সঠিকভাবে এবং সময়মত গুরুত্ব-সহকারে আদায় করা। যাতে রমজানে এক ওয়াক্ত নামাজও কাজা না হয়। সুন্নত এবং নফলের এহতেমাম করা।

৪। যেহেতু, রমাদান হল কোরআন নাজিলের মাস তাই বেশি থেকে বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা এবং অর্থ বুঝে বুঝে তেলাওয়াত করার চেষ্টা করা। অর্থ বুঝে বুঝে কোরআন তেলাওয়াত এর মধ্যে লাভ এবং সওয়াব দুটোই বেশি।

৫।বেশি বেশি দোয়া এবং কিয়ামুল লাইল করা। হুযুর সা. রমাদানে বেশি বেশি দোয়া এবং কিয়ামুল লাইল করতেন। এই মাসে যেহেতু যেহেতু সাহুর খেতে সবাই উঠে সেহেতু তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের মাধ্যমে বিগত জিন্দেগীর গুনাহ থেকে পানাহ চাওয়ার উত্তম সময় হতে পারে যা অন্য সময় কঠিন হয়ে থাকে।

৬। স্বামীর অনুমতি নিয়ে বেশি বেশি দান ও সদকা করা। দান ও সদকা আল্লাহ তা’লার রাগ কে ঠাণ্ডা করে দেয়।আর রমাদানে যেহেতু এক এ সত্তর তাই বেশি বেশি দান সদকা করার চেষ্টা করা।

৭। সিনেমা, নাটক, অশ্লীল নাচ গান দেখা থেকে বিরত থাকা যা রমাদানের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।

৮। এতে-কাফ করার চেষ্টা করা। নিজ ঘরে পূর্ণ পর্দা বজায় রেখে এতে-কাফ করতে পারেন। বড় একটি কামড়ার একটি অংশকে পর্দা দিয়ে ঢেকে এতে-কাফ করা যায়।

৯। মেজাজ কে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন। রাগ রোজার পবিত্রতাকে নষ্ট করে।হযরত মুহাম্মদ সা. রাগ করতে নিষেধ করেছেন। রমাদানে নারীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে ইসলামে বিশেষ কিছু বিধান রয়েছে তা নিয়ে

বিস্তারিত আলোচনা করা যাক-

  • গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে শরীর সুস্থ থাকলে রোজা রাখতে পারবে।আর যদি রোজা রাখলে শারীরিক ক্ষতি এবং বাচ্চার ক্ষতি হওয়ায় সম্ভাবনা থাকলে রোজা না রাখা উত্তম।পরে যেকোনো সময় রোজা কাজা করে নিবে।
  • অনেক নারীদের তাদের বাচ্চাদের দুধ পান করানো প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে দুগ্ধপানকারীনি মহিলাদের শরীর যদি সুস্থ থাকে তাহলে রোজা রাখতে কোন অসুবিধা নাই। অনেকের ভুল ধারনা রয়েছে যে দুধ পান করালে বোধহয় রোজা ভেঙ্গে যায় এটা ঠিক নয় রোজাতো দূরের কথা দুধ পান করালে ঔযু ও ভাঙ্গে না।
  • নারীদের রজঃস্রাব বা প্রসবোত্তর স্রাব হলে রোজা ভঙ্গ হবে। এই রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা আদায় করতে হবে না। তবে অনেক নারী তাদের মাসিক বা ঋতুস্রাব সাময়িক বন্ধ করে অনেক সময় রোজা রাখেন এতে শরীর এবং স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলে কোন অসুবিধা নেই তবে এমন ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না যাতে পরবর্তীতে শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে রোজা না রাখা উত্তম।
  • অনেক নারীরা নামাজে বা ইবাদতে ঘাটতি হবে বলে বাচ্চাকে ঠিকমত দেখাশুনা এবং ঘরের কাজ ঠিকমত করেন না । এটা একেবারেই উচিত নয় দায়িত্ব পালন করাও একটি ইবাদত। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি অন্যান্য ইবাদত একটু কমও হয় তাহলে ক্ষতি নেই বরং উত্তম। উপরিউক্ত বিষয়গুলি একজন নারী অনুসরণ করলে আশা করা যায় রমাদানের পূর্ণ বরকত পাবেন ইনশাআল্লাহ। হাদিসে রয়েছে,

জান্নাতের রইয়ান নামক একটি শাহী তোরণ আছে যা দিয়ে একমাত্র রোজাদার-গনই প্রবেশ করবে অন্য কেউ সে তোরণ দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না( আর যে ব্যক্তি সেই গেইট দিয়ে প্রবেশ করবে সে আর কখনও পিপাসিত হবে না)

(সহিহ বুখারি ১/২৫৪, সহিহ মুসলিম ১১৫২)

শেষ কথা

নারীরা কিভাবে রমজান কাটাবেন এ নিয়ে এটা ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এসব আমল ছাড়াও আরও অনেক আমল রয়েছে যার সব তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। পরিশেষে আল্লাহ তা’লা আমাদের রমাদানের পরিপূর্ণ হক আদায় করে গুনাহ মুক্ত জিন্দেগী গড়ার তৌফিক দান করুন আমিন।

লেখক: মোঃ সানোয়ার হোসেন

 

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।