বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের (রহ.) ইন্তেকালের পর জনৈক ব্যক্তি স্বপ্নে জিজ্ঞেস করলেন হযরত কেমন আছেন?

উত্তরে বললেন, আল্লাহ তা’আলা অনুগ্রহ পূর্বক মাগফিরাত দান করেছেন। অনুপযােগী এ বান্দাকে মর্যাদার আসনে স্থান দিয়েছেন; কিন্তু আমার প্রতিবেশী সাধারণ কামারের মর্তবা অনেক উন্নত।

স্বপ্নদ্রষ্টা লােকটি অবাক ভাবনায় হাবুডুবু খেতে লাগল। কামার লােকটি কেমন ছিলেন? বিশেষ কী আমল তিনি করতেন? যার ওছিলায় মহান প্রভু তাকে এত উঁচু মাকাম দান করলেন, যা খ্যাতিমানবুযুর্গ মুহাদ্দিস যামানার সেরা ওয়ারিসুন্নবী আবদুল্লাহ বিন মুবারক ঈর্ষান্বিত হয়ে ব্যক্ত করলেন।

সুতরাং অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। জানা দরকার কোন আমলে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন শ্রেষ্ঠ বুযুর্গ আবদুল্লাহ ইবনে মুবারককে এবং কেমন ছিলেন ভাগ্যবান সেই কামার?

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের মহল্লায় পৌঁছে জিজ্ঞেস করলেন স্বাপ্নিক, এখানে কোন কামার ছিলেন যার ইন্তেকাল হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সামনের বাড়িটি দেখিয়ে বললেন এই বাড়িটি তাঁর। কিছুদিন পূর্বে তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

অতঃপর সেখানে গিয়ে জীবিত স্ত্রীর কাছে লোকটি তার স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করে জানতে চাইলেন আপনার স্বামী কী আমল করতেন! যদ্দরুন তিনি হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের মর্তবাকে অতিক্রম করলেন?

কামারের স্ত্রী উত্তর দিলেন, আমার স্বামী বিশেষ কোন আমল করেন নি, সারাদিন লোহা-লক্কর কাটা ও নির্মাণে হাড়ভাঙ্গা মেহনত করতেন। তবে তার মধ্যে দুটি জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি,

এক. কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় আযানের আল্লাহু আকবার ধ্বনি শুনতেই কাজ বন্ধ করে দিতেন।এমনকি হাতুড়ী উঁচু করে লোহায় আঘাত হানবেন এমতাবস্থায় আযানের আওয়ায কানে আসতেই উদ্দত হাতুড়ী পিছনে ছুড়ে নামাযের প্রস্তুতি নিতেন।

এটা তার পছন্দ ছিল না যে আযান শুনে একটি আঘাত লোহায় করবেন।

দুই. আর একটি জিনিস দেখেছি যখন বাড়ীর ছাদে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক কে সারারাত নামাযে মশগুল দেখতেন তখন আফসোসের দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফরিয়াদ করতেন আমার স্বামী।

হায়! যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে সুযোগ দান করতেন তবে আমিও ইবাদতে মগ্ন হতাম।

নেক বখত কামারের বিবির বিবরণ শুনে লোকটির বুঝতে বাকি রইলো না যে, এই আফসোস আল্লাহ পাক এমনভাবে কবুল করেছেন যে, তাতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের চেয়ে উচু মাকাম দান করেছেন।

মুফতি তাকী উসমানীর আব্বা মুফতী মুহাম্মাদ শফী সাহেব (রহ.) প্রায়ই বলতেন বিরল আফসোস’ যা কখনও মানুষকে পৌছে দেয় বহুদূর। এ জন্য যখন কারও সম্পর্কে শোন যে, অমুক ব্যক্তি নেক আমল করে তবে ঐ নেক আমলের ব্যাপারে মনের মধ্যে লোভ ও ব্যাকুলতা সৃষ্টি হওয়া উচিত।

জাস্টিজ মাওলানা তাকি উসমানী সাহেব (দাঃ) এর হৃদয় ছোঁয়া গল্প বই থেকে গল্পটি সংগৃহীত

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।